বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবস্থাপনায় আসছে কড়াকড়ি। একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখতে পারবেন, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন সীমাটি আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এর ফলে ২৬ লাখ গ্রাহকের নামে থাকা অতিরিক্ত প্রায় ৬৭ লাখ সিম নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ হয়ে যাবে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৮ কোটি ৬২ লাখ সক্রিয় মোবাইল সিম রয়েছে (মার্চ ২০২৫)। এর বিপরীতে ন্যাশনাল আইডি অনুযায়ী গ্রাহকের সংখ্যা অনেক কম। ফলে একজন ব্যক্তি অনেক সিম ব্যবহার করছেন যা অনিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিটিআরসি মনে করছে, অতিরিক্ত সিম ব্যবহার করে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ ও অবৈধ লেনদেনের হার বাড়ছে। তাই এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই মোবাইল অপারেটরদের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হবে, যেখানে যেসব গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি সিম আছে, তাদের বিস্তারিত থাকবে।
অপারেটররা এসব গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়ে দেবে, তারা কোন ১০টি সিম রাখতে চান।
গ্রাহক কোনো সিম নির্ধারণ না করলে, পরবর্তীতে অপারেটররাই সিস্টেম অনুযায়ী অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করে দেবে।
যেসব সিমের ওপর নগদ, বিকাশ, রকেট অ্যাকাউন্ট, OTP বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকসেস নির্ভর করে, সেই সিমের তালিকা আগেই যাচাই করে রাখা জরুরি।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো বিটিআরসি একজন গ্রাহকের জন্য ১৫টি সিম নির্ধারণ করেছিল।
২০২২ সালে সিম রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি হালনাগাদ হলেও সর্বোচ্চ সীমা ছিল অপরিবর্তিত।
২০২৪ সালের শিক্ষার্থী-আন্দোলনের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের চাপ বাড়ে, যার ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ এসেছে বলে ধারণা।
প্রফেসর জিয়াউর রহমান (আইসিটি বিশেষজ্ঞ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
“বহুসংখ্যক সিম একজনের নামে থাকা মানেই সেই সিমগুলোর ট্র্যাকিং কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন সিদ্ধান্তটি সাইবার নিরাপত্তায় বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
মো. শহিদুল ইসলাম, মোবাইল রিটেইলার, মিরপুর:
“অনেক ব্যবসায়ী ও ডেলিভারি ম্যান ১০টির বেশি সিম ব্যবহার করেন। তাদের বিকল্প পথ দেখাতে হবে, না হলে ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হবে।”
নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে কতটি সিম নিবন্ধন আছে তা দ্রুত যাচাই করুন:
👉 ডায়াল করুন: *16001# → NID নম্বর দিন → ফিরতি মেসেজে সব অপারেটরের সিমের তালিকা আসবে।
যদি ১০টির বেশি সিম থাকে:
– প্রয়োজনীয় সিমগুলো নির্বাচন করে নিন।
– প্রয়োজনবিহীন সিম বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকুন।
– ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS), অফিস OTP–র জন্য কোন সিম ব্যবহৃত হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে রাখুন।
| দিক | সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|---|
| নিরাপত্তা | অপরাধ দমন | হঠাৎ জরুরি সিম নিষ্ক্রিয় |
| ডিজিটাল সেবা | পরিচয়ভিত্তিক পরিষেবা আরও সুনির্দিষ্ট | বহু একাউন্টে OTP আসা সিম ঝুঁকিতে |
| সিস্টেম স্বচ্ছতা | অপারেটরদের ডেটা বিশুদ্ধ হবে | ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র সিম সংখ্যার ওপর কড়াকড়ি নয়, বরং বায়োমেট্রিক রি-ভেরিফিকেশন, সিম ক্লোনিং প্রতিরোধ ও এনআইডি ভিত্তিক একাধিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা আনলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি কর্পোরেট ও বিজনেস শ্রেণির জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করা দরকার।
আপনার সিম সংখ্যা এখনই চেক করুন — আপনার ভবিষ্যতের নিরাপত্তা আপনার হাতে।
“একটা OTP না এলে যেভাবে আমরা অ্যাকাউন্ট হারিয়ে ফেলি, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীন সিম ব্যবহারে হারাতে পারি জাতীয় নিরাপত্তা।” — একজন ব্যবহারকারীর উপলব্ধি
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |